রিজার্ভ ছাড়াল সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার

রাজনৈতিক পালাবদলের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো আজ। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। একই দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোট।

মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের এই দিনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় রিজার্ভে এ উত্থান দেখা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী হয়েছে। এছাড়া, আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকা এবং রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকাও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক পালাবদলের এই সময়ে রিজার্ভ বৃদ্ধির খবর নতুন সরকারের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম আস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে।

চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।  

এদিকে, প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৯০ কোটি মার্কিন ডলার (৪.৯০ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রফতানি ও প্রবাসী আয় উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সেই অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

1 thought on “রিজার্ভ ছাড়াল সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top