‘বাংলাদেশের এশিয়ান কাপে খেলাটা বিশাল অর্জন’

২০২৬ সালের মার্চ মাসে এএফসি নারী এশিয়ান কাপে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। তখন সত্যি এক নতুন ইতিহাস রচিত হবে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নারী জাতীয় দল এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে। যার পেছনে রয়েছে ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও। এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছেন প্রধান কোচ পিটার বাটলার। যিনি গত তিন বছরে দলটিকে গড়ে তুলছেন। তার কাছে বাংলাদেশের মেয়েদের এশিয়ান কাপে খেলাটা বড় অর্জনই। ফিফার ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মূল্যায়ন আবারও দিয়েছেন ৫৯ বছর বয়সী কোচ।

এই ইংলিশ কোচ গত দুই দশক ধরে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেছেন। তার সেই অভিজ্ঞতাই এখন দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশে কাজে লাগাচ্ছেন। বাটলার ফিফাকে বলেছেন, ‘আমি এই কোয়ালিফিকেশনকে একটি বিশাল অর্জন হিসেবে দেখছি। এটি খুব তরুণ একটি দল। স্কোয়াডের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়ের বয়স ২০ বছরের নিচে। একই সময়ে আমাদের অনূর্ধ্ব-২০ দলও এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’

​বাটলারের কাছে তাৎক্ষণিক জয়ের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সিনিয়র ও যুব দলগুলো এখন একসাথে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ঋতুপর্ণা চাকমা, স্বপ্না রানী এবং আফঈদা খন্দকারের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা দলের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘এটি এই খেলোয়াড়দের জন্য অনেক বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ। আমরা এই টুর্নামেন্ট জেতার প্রত্যাশা নিয়ে যাচ্ছি না; আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি ভিত্তি তৈরি করা, যেন বাংলাদেশ বারবার এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।’

বাটলার দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে, তিনি যে পরিবর্তনগুলো আনছেন তা কঠিন হবে এবং হয়তো সবার কাছে জনপ্রিয় হবে না।
বাটলারের ভাষায়, ‘আমরা মূলত আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড় এনে সিনিয়র জাতীয় দলটিকে নতুন করে গুছিয়েছি। আমি আসার আগে স্কোয়াডে এমন কিছু খেলোয়াড় ছিল যারা সেখানে থাকার যোগ্য ছিল না। কাজটা সবার জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু আমি এখানে মানুষকে খুশি করতে আসিনি। মাঝে মাঝে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এবং খেলোয়াড়রা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।’

​উন্নয়নের পথে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাটলার তিনটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মানসিকতা, সম্পদ এবং অবকাঠামো। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষকে নতুন আইডিয়া এবং একটি নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে রাজি করানো। ডায়েট এবং পুষ্টি বড় বাধা, তেমনি বড় বাধা প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা। এই দেশে ভালো প্রশিক্ষণ মাঠের অভাব রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলোর কারণে আমাদের নতুন করে ভাবতে হয়েছে। এখান থেকে আমি যদি একটি জিনিস শিখে থাকি, তবে তা হলো মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আমাকে প্রশিক্ষণের পদ্ধতিতে আরও নমনীয় হতে হয়েছে।’

​এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তারপরও বাটলার ভীষণ সতর্ক, ‘আমি মনে করি আমাদের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। আমরা কেবল শুরু করেছি। বড় চ্যালেঞ্জ এখনও সামনে।’

এশিয়ান কাপের ড্রতে বাংলাদেশের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। গ্রুপ বি-তে তাদের সাথে আছে উত্তর কোরিয়া, চীন এবং উজবেকিস্তান। বাটলার বাস্তববাদী, ‘আমরা সুশৃঙ্খল এবং লড়াকু হবো এবং ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করবো। তবে নারী বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আমাদের জন্য একটি বিশাল পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার মতো কঠিন কাজ।’

​বতসোয়ানা এবং লাইবেরিয়ার সাবেক এই কোচের কাছে এশিয়ান কাপ মানেই ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে থাকা নয়। তার লক্ষ্য স্পষ্ট, ‘আমার একমাত্র মনোযোগ এখন চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ভালো লড়াই করা। এটিই আমাদের সামনের আসল চ্যালেঞ্জ। মূল উদ্দেশ্য শুধু কোয়ালিফাই করা নয়, বরং সঠিক উপায়ে শৃঙ্খলা ও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের ছাপ রেখে যাওয়া।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top