আপনার নম্বর কি ট্রুকলারে দেখাচ্ছে? জেনে নিন স্থায়ীভাবে সরানোর পদ্ধতি

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে বহুল পরিচিত একটি অ্যাপ হলো Truecaller। অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে কলারের নাম শনাক্ত করতে এটি সহায়ক হলেও, অনেকের কাছে এটি ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ।

অ্যাপটি মূলত ক্রাউডসোর্সিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট লিস্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি ডাটাবেস তৈরি করে। ফলে অনেক সময় কারও অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার নাম ও নম্বর অন্যদের ফোনে প্রদর্শিত হয়। এতে বিভ্রান্তি, ভুল পরিচয় বা বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে চাইলে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করে নিজের নম্বর প্ল্যাটফর্মটি থেকে সরিয়ে ফেলা সম্ভব।

অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট করার উপায়

নাম ও নম্বর পুরোপুরি সরানোর প্রথম ধাপ হলো অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট করা। স্মার্টফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করা থাকলে সেটি খুলে মেনু থেকে ‘সেটিংস’-এ যেতে হবে। এরপর ‘প্রাইভেসি সেন্টার’ অপশনে প্রবেশ করে নিচে স্ক্রল করলে ‘ডি-অ্যাক্টিভেট’ বাটন পাওয়া যাবে। সেখানে ক্লিক করে নির্দেশনা অনুসরণ করলে অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হবে।

তবে শুধু অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট করলেই নম্বরটি গ্লোবাল ডাটাবেস থেকে মুছে যায় না।

ডাটাবেস থেকে নম্বর আনলিস্ট করার পদ্ধতি

অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার পর নম্বরটি সার্চ ফলাফল থেকে আনলিস্ট করতে হবে। এজন্য ওয়েব ব্রাউজারে গিয়ে ট্রুকলারের আনলিস্ট পেজে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক কোডসহ (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে +৮৮০) নিজের মোবাইল নম্বর লিখতে হবে।

এরপর নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য ক্যাপচা পূরণ করে আনলিস্ট করার কারণ নির্বাচন করতে হবে। সবশেষে ‘আনলিস্ট’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনটি জমা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডাটাবেস থেকে তথ্য অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

তথ্য মুছে যেতে কত সময় লাগে

সাধারণত আবেদন করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার্চ ডাটাবেস থেকে নম্বর মুছে ফেলা হয়। তবে অন্য কারও ফোনে নম্বরটি নির্দিষ্ট নামে সংরক্ষিত থাকলে ক্যাশ মেমোরির কারণে কিছু সময় পুরোনো নাম দেখা যেতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে সেটি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

যারা পুরোপুরি নম্বর মুছতে চান না কিন্তু ভুল নাম সংশোধন করতে চান, তারা অ্যাপের ‘এডিট’ অপশন ব্যবহার করে সঠিক নাম প্রস্তাব করতে পারেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় নিজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে সাংবাদিকসহ গুরুত্বপূর্ণ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আরও গুরুত্ব বহন করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top