রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করছে ইসরায়েল

আসন্ন রমজান মাসে মুসল্লিদের জন্য আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ একরিমা সাবরি এই তথ্য জানিয়েছেন।

শেখ সাবরি আনাদোলু নিউজকে বলেছেন, তৃতীয় সর্বোচ্চ পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করার এই পরিকল্পনা দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।

তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বেশ কিছু তরুণকে মসজিদে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। রমজান মাসে পশ্চিম তীর থেকে আসা মুসল্লিদের জন্যও এই সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা হবে। এর ফলে, মসজিদে এ বছর মুসল্লির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হবে। শেখ সাবরি বলেন, ‘এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং রোজার মাসে মুসলিমদের ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করবে।’

গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার মে. জেন. অভশালোম পেলেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন থেকেই আল-আকসা নিয়ে ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইসরায়েলের চরম-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইটামার বেন-গভির আল-আকসা সংক্রান্ত পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হ্যারেটজ লিখেছে, ‘বেন-গভির সব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যই হলো উত্তেজনা সৃষ্টি করা।’

শেখ সাবরি বলেন, ইসরায়েল ইসলামিক ওয়াকফের ক্ষমতা সীমিত করতে চাচ্ছে। এ পদক্ষেপ শুধুমাত্র আল-আকসায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি এলাকায় ঘর-বাড়ি ধ্বংস নীতিকেও প্রসারিত করছে।

প্রতিবছর রমজান মাসে পশ্চিম তীরের লাখ লাখ ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল-আকসায় নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল সামরিক চেকপোস্টগুলোতে সীমাবদ্ধতা কঠোর করেছে। এর ফলে পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের জেরুজালেমে প্রবেশ কঠিন হয়ে গেছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top