১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত দাখিলের নির্দেশ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে ও বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন। তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন করলে আদালত পুনঃতদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে হস্তান্তর করে।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয় ওসমান হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভুক্তভোগীর রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরির উদ্দেশ্যেও পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top