আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ঢাকা মহানগরীর ১৩টি সংসদীয় আসনে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ঢাকা বিভাগের কমিশনার এবং রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অফিস আদেশে এই টিমের গঠন সম্পর্কে জানিয়েছেন।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, উল্লেখিত টিম নির্বাচনী এলাকা ১৭৭ (ঢাকা-৪) থেকে ঢাকা-১২ (১৮৫), ঢাকা-১৪ (১৮৭) ও ঢাকা-১৬ (১৮৯) পর্যন্ত ঢাকা-১৮ (১৯১) আসনসহ মোট ১৩টি আসনে কাজ করবে।
হিসাবে, ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এই কমিটির সভাপতি এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ ফজলুর রহমানকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও এপিএমবি) সালমা খাতুন, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) এস. এম নজরুল ইসলাম।
কমিটিতে আরও অন্তর্ভুক্ত আছেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) মো. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মোহা. ইয়াছিন আরাফাত, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) পদের অতিরিক্ত দায়িত্বে বর্তমান প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ।
অফিস আদেশে টিমের সাতটি কার্যক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে-
১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর যথাযথ অনুসরণ হচ্ছে কি না, অথবা ভঙ্গ হচ্ছে কিনা বা ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে কিনা তা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে এই অবজারভেশন টিম।
২. নির্বাচনী প্রচার এবং নির্বাচনী ব্যয়ে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে কি না বা অন্যান্য বিধিমালা অনুসরণ করছে কি না তা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।
৩. আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নির্বাচন তদন্ত কমিটিকে (ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি/এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা) জানাতে হবে।
৪. নির্বাচনী বিধি-নিষেধ ভঙ্গের ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতে অভিযোগ দাখিল করার ব্যবস্থা করে নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে উদ্ভূত বিষয়গুলো সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের ব্যবস্থার পরামর্শ দেবে এই টিম।
৫. যদি প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট বা তাঁদের পক্ষে অন্য কেউ আচরণ বিধিমালার কোনো ধারা ভঙ্গ করে বা ভঙ্গ করার চেষ্টা করে, অথবা নির্বাচনী ব্যয়ের বিধি যেমন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৪ক) সঠিকভাবে মেনে না চললে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁর প্রতিনিধিকে অথবা সংশ্লিষ্ট কমিটি বা দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করবে।
৬. কমিটির সদস্যদের রিপোর্ট সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিদিন একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে।
৭. রিটার্নিং অফিসার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন অথবা টিমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে টিমের।




আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ১৩টি সংসদীয় আসনে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠন করেছে সরকার।