ক্যানসারে আক্রান্ত মাকে কেমোথেরাপি দিতে হবে। এর আগে করতে হবে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এ কারণে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. ইসমাইল। কিন্তু সকাল থেকে টানা তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মায়ের পরীক্ষা করাতে পারেননি তিনি। হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতির কারণে দূর থেকে এসেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাঁকে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথোলজি বিভাগের সামনে কথা হয় মো. ইসমাইলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২০ দিন আগে মায়ের খাদ্যনালিতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। এবার কেমোথেরাপি দেওয়ার জন্য কিছু পরীক্ষা করাতে হবে।
এ জন্য হাসপাতালের কাউন্টারে টিকিট দিল, টাকাও নিল; কিন্তু পরীক্ষা হচ্ছে না। সকাল থেকে এসে দাঁড়িয়ে আছি।’ ইসমাইলের মতো এমন অসংখ্য রোগীর স্বজন ও রোগীকে দেখা গেল বহির্বিভাগের প্যাথোলজি ল্যাবের সামনে। তাঁদের অধিকাংশই সকাল ৮টা বা ৯টা থেকে অপেক্ষা করছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আজ ৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। এ কারণে সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। প্যাথোলজি ল্যাবের সামনে কথা হয় মোহাম্মদ ইব্রাহীম, জাকির হোসেন ও সাবিনা খাতুনের সঙ্গে। মোহাম্মদ ইব্রাহীম ও জাকির হোসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী। রক্ত পরীক্ষা করানোর জন্য দাঁড়িয়েছিলেন সকাল ৯টা থেকে। কিন্তু টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা না থাকায় তাঁদের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়নি। সাবিনা খাতুনের তিন বছরের শিশুর তীব্র জ্বর। তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, পরীক্ষা বন্ধ থাকলে টিকিট দেওয়ার আগে বলে দিলে হয়।
টাকা জমা নিয়ে নিল অথচ এখনো পরীক্ষা করানো হচ্ছে না। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা হাসপাতালগুলোয় রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, ইমেজিং, যন্ত্র পরিচালনা, ফিজিওথেরাপি, ডেন্টাল টেকনোলজি, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, ব্লাড ব্যাংকসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করেন। কর্মসূচির চার ঘণ্টা এসব সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল। এর আগে গত রোববার দুই ঘণ্টা এবং গতকাল বুধবার চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এ কারণে কয়েক হাজার রোগীর সেবা বিলম্ব হয়েছে।



