লন্ডনের কিংস কলেজের বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডার্ক চকলেটে থাকা থিওব্রোমিন নামের প্রাকৃতিক যৌগ শরীরের জৈবিক বার্ধক্য ধীর করতে পারে। ১,৬০০ জনেরও বেশি মানুষের রক্তে থিওব্রোমিনের মাত্রা বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন—যাদের রক্তপ্রবাহে এই যৌগ বেশি থাকে, তাদের জৈবিক বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় কম দেখা যায়।
গবেষণা কী দেখালো
দুইটি বড় ইউরোপীয় গবেষণা দল—TwinsUK (৫০৯ জন) এবং KORA (১,১৬০ জন)—এর তথ্য বিশ্লেষণে একই ফল পাওয়া গেছে। থিওব্রোমিনের উচ্চ মাত্রা থাকা ব্যক্তিদের শরীর বার্ধক্যের বিভিন্ন সূচকে তুলনামূলকভাবে ‘তরুণ’ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জৈবিক বয়স নির্ণয় হলো যেভাবে
গবেষকরা বয়স বিশ্লেষণে দুইটি সূচক ব্যবহার করেছেন।
- DNA মিথাইলেশন: যেসব রাসায়নিক চিহ্ন বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ধীরে ধীরে বদলায়।
- টেলোমিয়ার দৈর্ঘ্য: ক্রোমোজোমের প্রান্তের সুরক্ষামূলক অংশ। টেলোমিয়ার যত ছোট হয়, বয়স তত বাড়ে।
উভয় সূচকেই থিওব্রোমিন বেশি থাকা ব্যক্তিদের বয়স তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
কেন থিওব্রোমিন গুরুত্বপূর্ণ
কোকো ও কফিতে একাধিক সক্রিয় যৌগ থাকলেও বিশ্লেষণে দেখা গেছে—বার্ধক্যের পার্থক্যের সাথে সবচেয়ে শক্ত সংযোগটি থিওব্রোমিনের।
এই অ্যালকালয়েড জিন নিয়ন্ত্রণকারী কোষীয় সিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও বয়স-সম্পর্কিত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
এপিজেনোমিক্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জর্ডানা বেল বলেন—“ডার্ক চকলেটের একটি মূল যৌগ এবং দীর্ঘকাল তরুণ থাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যোগসূত্র দেখা গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের বেশি চকলেট খাওয়া উচিত।”
প্রধান গবেষক ডঃ র্যামি সাদ মনে করেন—এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো থিওব্রোমিন কীভাবে এপিজেনোমে প্রভাব ফেলছে, সেটি বোঝা।
ডার্ক চকলেট কি তাহলে বয়স কমায়?
গবেষকেরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
ডার্ক চকলেটে থিওব্রোমিন থাকলেও তাতে চর্বি, চিনি ও অন্যান্য উপাদানও আছে। তাই চকলেট খাওয়া বাড়ানোই সমাধান নয়।
এগিয়ে যাওয়ার পথ
গবেষকরা এখন পরীক্ষা করছেন—থিওব্রোমিন একা কাজ করে নাকি ডার্ক চকলেটের অন্যান্য পলিফেনলের সঙ্গে মিলেই শরীরে প্রভাব ফেলে।
তাদের ধারণা, এই গবেষণা বার্ধক্য এবং বয়স-সম্পর্কিত রোগ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিক খুলে দিতে পারে।


তথ্য কি সঠিক ?
সঠিক গবেষনা হচ্ছে
আরও ভাল ভাবে গবেশোনা করতে হবে
গবেষনা চলছে
ডার্ক চকলেট হা্র্ট এর সুস্হতায়ও কা্র্যকরী ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
যৌবন ও বয়স ধরে রাখে
বার্ধক্যের পার্থক্যের সাথে সবচেয়ে শক্ত সংযোগটি থিওব্রোমিনের।
বেশি খাওয়া আবার ক্ষতি