বিডিআর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীকে দুর্বল ও ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা

শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং অন্যান্য বাহিনীগুলোকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। রোববার সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদনের জমা দেওয়ার পর কমিশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, আজ সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ১১ মাস পর এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২৪৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি ১৪ জন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ১০ জন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা দুজন, সামরিক কর্মকর্তা ১৩০ জন, অসামরিক কর্মকর্তা চারজন, পুলিশ কর্মকর্তা ২২ জন, বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ ৯ জন, সাবেক ও বর্তমান বিডিআর বা বিজিবি সদস্য ২২ জন, কারাগারে আছেন ২৬ জন ও সাংবাদিক তিনজন। এর মধ্যে আমরা ৬০০ ঘণ্টা ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং রেকর্ডিং রিভিউ করেছি। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত স্থিরচিত্র ও ছবি নিয়েছি প্রায় ৮০০টি।

বিভিন্ন খবরের কাগজে প্রচারিত সংবাদ নিয়েছি প্রায় ২১৫টি, সরকারি ও বেসরকারি মোট ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পত্রালাপ করা হয়েছে। পত্রালাপের মাধ্যমে ৯০৫টি এবং প্রতিমাসে ৮১টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ছয়টি তদন্ত প্রতিবেদন সেনাবহিনীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। জাতীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন বিডিআর পরিচালিত ৫২টি তদন্ত প্রতিবেদন বিজিবিতে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইট বা ই-মেইল বা জবানবন্দি ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে ৩১৬টি বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড কারা ছিল— এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ, তৎকালীন ডিজিএফআই-এর প্রধান মেজর জেনারেল আকবর।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছিল, সে সময়ে সরকার দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছিল এবং বিডিআরসহ বাহিনীগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছিল। এই ষড়যন্ত্র কতদিনে চলছিল এবং কে জড়িত ছিল সে সম্পর্কে তারা জিজ্ঞাসা করেছিল। শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা এই ষড়যন্ত্র চালানোর চেষ্টা করছিল। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখানে বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশ বলা হয়েছে। সেনা অভিযানের কারণ অবৈধ ছিল। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মঈনের কারণে সেনা অভিযান চালানো হয়নি। যদি অভিযান চালানো হত, তাহলে ভারত ইন্টারফেয়ার করত এবং ১৯৭১ সালের মতো বাংলাদেশ থেকে ফিরে যেত।

দুই দিনে ৫৭ অফিসার নিহত হয়েছিল, এবং দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হারিয়েছিল। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচজন সেনাবাহিনী কর্মকর্তাকে গুম করা হয়েছিল। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে ডিজিএফআই-এর হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। ডাল-ভাত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে তাদেরকে উপলব্ধি ছিল। বাহিনীগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা ও শেখ হাসিনার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জাতীয় স্বাধীনতা তদন্ত কমিশনের সভাপতি উল্লেখ করেছিলেন, ২০-২৫ জনের দল বিদ্রোহস্থলে ঢুকে পড়ে এবং ২০০ জনের মিছিলে ধাওয়া হতেছিল। বিদ্রোহে বিডিআর সদস্য ছাড়াও বাহিরাগতরা অংশগ্রহণ করেছিল। অনেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও ছাত্রলীগের সদস্য হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনায় হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল এবং এর প্রমাণ ভিডিওতে প্রদর্শিত হয়েছিল। এই সম্পর্কে তারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন। তদন্তে অনেক সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

2 thoughts on “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীকে দুর্বল ও ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top