নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করলেও স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে—যখন লক্ষণ খুবই কম এবং স্ক্রিনিং-ই ক্যান্সার শনাক্ত করে। তবু বাস্তবে অনেক নারী তখনই পরীক্ষা করান, যখন স্তনে পরিবর্তন চোখে পড়ে।
সান ফ্রান্সিসকোর পার্কার সেন্টার ফর ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির প্রধান ক্যারেন নুডসেন বলেন, “আমরা চাই ক্যান্সার এমন পর্যায়ে পাকড়াও হোক, যখন এখনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।” কিন্তু অনেক রোগী যখন নিজেরাই পিণ্ড বা ফোলাভাব টের পান, তখন দেরি হয়ে যেতে পারে।
টেক্সাস ইউনিভার্সিটির এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের ব্রেস্ট ইমেজিং বিশেষজ্ঞ ইথান কোহেনের অভিজ্ঞতা—“অনেকেই পিণ্ড অনুভব করার পরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করেন। এটি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।”
এখানে সেই সাতটি লক্ষণ দেওয়া হলো, যেগুলো দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
১. স্তনে নতুন পিণ্ড
এটাই সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
অনিয়মিত প্রান্তযুক্ত শক্ত, ব্যথাহীন পিণ্ড বেশি উদ্বেগজনক। তবে নরম বা গোলাকার পিণ্ডও কখনও ক্যান্সার হতে পারে।
২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৩ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে পিণ্ডই প্রথম লক্ষণ ছিল।
তবে মনে রাখতে হবে—অধিকাংশ পিণ্ডই সৌম্য, যেমন সিস্ট বা হরমোনজনিত পরিবর্তন।
২. স্তনের আকার বা আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন
একটি স্তন অন্যটির তুলনায় চোখে পড়ার মতো বড় বা ফুলে গেলে পরীক্ষা করা জরুরি, এমনকি পিণ্ড অনুভব না হলেও।
৩. বগল বা কলারবোনের কাছে ফোলা লিম্ফ নোড
অনেকের ক্ষেত্রে স্তনে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার আগেই লিম্ফ নোড ফুলে যায়।
সংক্রমণ, আঘাত বা টিকাদানেও নোড ফুলতে পারে, তবু এটাকে সিরিয়াসলি দেখা উচিত।
৪. স্তনের ত্বকের পরিবর্তন
ত্বক লাল হওয়া, চুলকানি, খোসা ওঠা, ডিম্পল পড়া অথবা কমলার খোসার মতো টেক্সচার—এগুলো সতর্কতা।
২০১৭ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৬ জন রোগীর মধ্যে ১ জনের এমন ত্বক-সংক্রান্ত লক্ষণ ছিল।
বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে এটি অনেক সময় ভুল করে সংক্রমণ ভেবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এই ভুলটি বিপজ্জনক।
৫. স্তনবোঁটার আকৃতির পরিবর্তন
বোঁটা ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, পাশে টেনে যাওয়া বা সাধারণ আকৃতির পরিবর্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। অবহেলা করা ঠিক নয়।
৬. স্তনবোঁটা থেকে অস্বাভাবিক স্রাব
মায়ের দুধ ছাড়া যেকোনো স্রাব উদ্বেগজনক—বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত স্রাব।
স্বচ্ছ স্রাবও হালকা নয়; চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
৭. দীর্ঘস্থায়ী স্তনব্যথা
হরমোনজনিত কারণে মাঝে মাঝে স্তনব্যথা স্বাভাবিক।
কিন্তু স্তন বা বগলের ব্যথা যদি টানা থাকে, বিশেষ করে চক্রের সাথে সম্পর্কহীন হয়—তাহলে পরীক্ষা করা উচিত।
স্ব-পরীক্ষা কি জরুরি?
একসময় মাসিক ভিত্তিতে স্ব-পরীক্ষা প্রচলিত ছিল। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ক্যান্সার আগেভাগে শনাক্ত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে না।
তবুও চিকিৎসকরা বলেন—নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকাটাই মূল বিষয়। স্তন সাধারণত কেমন দেখায়, কেমন অনুভূত হয়—এসব জানা থাকলে ছোট পরিবর্তনও দ্রুত ধরা পড়ে।
শেষ কথা
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা সফলতার হার বেশি। তাই যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত জানানোই সেরা পথ। সচেতনতা ও স্ক্রিনিং—এই দুইয়ের সমন্বয় জীবন বাঁচাতে পারে।


দেশব্যাপী সচেতনতা অব্যাহত রাখতে হবে কারণ এটা ভয়ংকর রোগ।
আমাদের দেশের সমস্যা হল লজ্জা
খুবই ভাল পরামর্শ
সবাই সচেতন হতে হবে
আমাদের দেশের নারী সমাজের সচেতনতা দরকার। রোগাক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা স্তন পরীক্ষা করাতে লজ্জাবোধ করেন।অথচ উন্নত দেশের নারীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর ম্যামোগ্রাফি করে থাকে।
সবাইকে সচেতন হতে হবে
ক্তক হবে কি ভাবনার অতিরিক্ত
সচেওনতা বেশি গরুওরি
এটাই সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
সচেতন হতে হবে