ভিনিসিয়ুস ভুল করেছেন গোল করতে, কিন্তু কী হয়েছে তার জানা নেই।

ভিনি একসময় গোল করে এবং তার নাচ দর্শকের সামনে নজর কেন্দ্রিত থাকত। কিন্তু এখন গোল নেই, তাই নাচ ও নেই। এখন সবুজ কালর স্থানে দর্শকদের দুজনই থাকেন!সান্তিয়াগো বার্নাবেউ গত শনিবার রাতে গত ৮৩ মিনিটের ম্যাচে প্রথম হাফেতে ভিনিসিয়ুসকে তুলে গলানোর পর রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাভি আলোনসো ঘুম থেকে জাগা দেন। ব্রাজিলীয় ওয়িংগার মাঠ ছেড়ে বেঞ্চে বসতে বসতে তাঁদের দুটি জনপ্রিয় সমর্থকরা উত্তুষ্ট করেছেন। হালকা ড্রিবলিং-এও ভিনিসিয়ুস সমস্যাগ্রস্ত হতে পারতে, কিন্তু এখন তারা তাকে সহ্য করতে চাইছে না! কারণ, ভিনিসিয়ুস গোল করতে ভুল করছেন।সমর্থকদের দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই। জাভি নিজে দুজনের স্বাধীনতা এবং মতামত প্রকাশ করতে পারেন। ভিনিসিয়ুসের দিকে এখন খারাপ সময় চলছে। বড়দিনে ম্যাচে ফিরে গোল করার স্বাদ তিনি আবার ফিরে এনতে পারবেন কিনা, সেই উত্তরটা সময় দেবে। এখন জেনে নেওয়া যাক, গোল করা ভিনিসিয়ুসের ফর্মটি কতটা খারাপ ছিল।রিয়াল এবং ব্রাজিলের জাতীয় দল মিলিয়ে (১৪ ম্যাচ রিয়াল, ৩ ম্যাচ ব্রাজিল) সবশেষ ১৭ ম্যাচে ভিনিসিয়ুস গোল করেননি। সর্বশেষ গোল করেছিল, এটি দুই মাস আগে হয়েছিল। রিয়ালের ম্যাচে ৫২ গোলে তাঁর অবদান মাত্র ৯ শতাংশ (৫)।ভিনিসিয়ুস এই মৌসুমে ২৪ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন। এখান থেকে গোল করার হারটি চমকে আসতে পারে। প্রতি ৩৫৬ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন! এটি ধরলে প্রচুর পরিবর্তনটি যেতে পারে। গত মৌসুমে প্রতি ২১০ মিনিটে একটি করে গোল করেন (২২ গোল), তার আগের মৌসুমে প্রতি ১২৮ মিনিটে একটি করে গোল করেন (২৪ গোল)।দুই বছরের ব্যবধানে ১২৮ মিনিট থেকে ৩৫৬ মিনিট! এই পরিবর্তনীটি অসাধারণ হওয়ার পরে এই ভিনি রিয়ালের ভিনি কি না, সেই প্রশ্নটি তুলতে পারে। কারণ, এটি একটি পরিসংখ্যান। রিয়ালে মূল দলে যোগ দেওয়ার পর পরের মৌসুমে ভিনির মিনিটের হিসাবে তাঁর গোল হারটি তৃতীয় সর্বোচ্চ বাজে।২০১৮-১৯ মৌসুমে ভিনি রিয়ালে খেলতে পেলেন। সেই মৌসুমে তিনি রিয়ালের “বি” দলেও খেলেন। তাই ওই মৌসুমে তাঁর ৩১ ম্যাচে ৪ গোল করেন (প্রতি ৪৩৫ মিনিট পরপর)। ২০১৯-২০ মৌসুমে ৩৮ ম্যাচে ৩৮ ম্যাচে ৫ গোল করেন – প্রতি ৩৬৩ মিনিট পরপর। তবে রিয়ালে মূল দলে ভিনির সর্বোচ্চ হিসাবে গোলের হার পরের মৌসুমে ছিল (২০২০-২১)। সেই সেবা একেবারে ৪৯ ম্যাচে ৬ গোল করেন – প্রতি ৪৫৩ মিনিট পরপর একটি করে গোল।ভিনি এই বছরে রিয়ালের জন্য ১৩ গোল করেছেন। এর মধ্যে ৫ গোল করেছেন জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে। এই গোলের ৩৮% এসেছে বছরের প্রথম ২৫% সময়ে। হ্যাটট্রিক নেই। জোড়া গোল আছে দুটি ম্যাচে। এ মৌসুমে রিয়ালের ৫২ গোলে তাঁর অবদান মাত্র ৫% (৫)।ভিনির গোলখারায় আরও একটি বিষয় প্রভাবক হিসাবে দেখা যায়। ২০১৮ সালে ২৮ অক্টোবর প্যারিসে ব্যালন ড’অর অনুষ্ঠানে প্রথম স্থানে যেতেন এবং দ্বিতীয় হন ভিনি। ম্যানচেস্টার সিটি তারকার কাছে হারের পর জেদের বশে ভিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ১০ গুণ শক্তিশালী হওয়ার পরে ফিরবেন। তবে পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে, গত বছরের ব্যালন ড’অর অনুষ্ঠানের পর এই পর্যন্ত ৬৭ ম্যাচে মাত্র ১৯ গোল করেছেন ব্রাজিলের তারকা।ভিনিসিয়ুস এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি না, তা সময় দেবে। কিছুদিন আগে কোচ জাভি আলোনসোর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার গল্প শুনা গিয়েছিল। তবে স্পেনীয় সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, সম্পর্কটি উন্নতি করা হয়েছে। তবে রিয়াল সমর্থকদের দুজনকে এবং ভিনিকে ফর্মের কারণে ইউরোপের কিছু ক্লাব সুযোগ নেওয়ার একটি অপেক্ষা আছে। অর্থাৎ ভিনিকে কিনতে চায় কোনও ইউরোপীয় ক্লাব – এই খবরটি জানিয়েছে স্পেনীয় সংবাদমাধ্যম। রিয়ালে ভিনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top