সংসদ অধিবেশনের ফাঁকে দর্শক গ্যালারিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২

গণঅভ্যুত্থানের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের ফাঁকে দর্শক গ্যালারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে চাপে যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে হিসাব কষে ব্যয় করতে হয়, তেমনি এই মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হলো জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।

অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বিরতির ফাঁকে দর্শক গ্যালারিতে থাকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের কাছে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনের গ্যালারির ‘মেঘনা হলে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা আর দূরত্বের দেয়াল ভেঙে তৈরি হয় এক আন্তরিকতার পরিবেষ।

প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কথা বলতেন। ক্ষমতার আসন ছেড়ে মানুষের কাছে যাওয়ার এক অনন্য উদাহরণ দেখাতেন। কোনও প্রটোকলের দূরত্ব নয়, তিনি অনন্যভাবে কাছাকাছি যাওয়ার পদক্ষেপ নিতেন। অনেকের চোখে এখনো না শুকানো বেদনার ছায়া, কারও মুখে ক্লান্তির ছায়া দেখা যেত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার খোঁজখবর নেন। কারও সন্তানের কথা শুনে থমকে যান, কারও চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে চান, আবার কারও কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেন।এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ছিল সহমর্মিতা, চোখে ছিল গভীর মনোযোগ, যেন রাষ্ট্রপ্রধান নন, একজন পরিবারের সদস্য হয়ে শুনছেন তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার কথা।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষের আনুষ্ঠানিকতা আর রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এই সংক্ষিপ্ত মুহূর্তে যেন এক নতুন বার্তা উঠে, রাষ্ট্র শুধু নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই তার প্রকৃত শক্তি। বিরতির এ ক্ষণে প্রধানমন্ত্রী অনুমান করেছেন, দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং মানবিকও।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৬০ জন জুলাই গণ-আন্দোলনের সঙ্গে সংযুক্ত পরিবারের সদস্য এ সময় সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ২৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্য, অন্য সবাই জুলাই গণ-আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়ে আহত হয়েছিলেন। অনেকেই এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষের ভাবনা ও অবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চান। কিছু মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সামনে এসে কান্না করলে, তিনি তাদেরকে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। আবেগপূর্ণ পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সর্বদা জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top