প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এই দুটিসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে (রহিত) সংসদে বিল আনার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
এই ক্ষেত্রে আগামী সময়ে এ অধ্যাদেশগুলির যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে এগুলি আরো শক্তিশালী হয়ে নতুন আইন গঠনে সাহায্য করে। এতে দ্বিধা হলে এ অধ্যাদেশগুলি বাতিল হিসেবে মনোনয়ন পাবে। ১০ এপ্রিলের পর এগুলি প্রভাবশালী হবে না এবং মোট ২০টি অধ্যাদেশ প্রভাবশালী হওয়ার আশঙ্কা নেই।
বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অনুমোদনের জন্য বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের জন্য হুবহু সুপারিশ করা হবে। আর সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৫টি সংশোধিত আকারে বিল উত্থাপনের জন্য বিশেষ কমিটির সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে গতকাল বৃহস্পতিবার এসব সুপারিশসহ সংসদে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টির বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন বিশেষ কমিটিতে থাকা জামায়াতে ইসলামীর তিন সংসদ সদস্য। তাঁদের ভিন্নমতের উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এই তালিকায় অন্যান্য অধ্যাদেশগুলির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত কয়েকটি আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ (বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে উল্লেখিত বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ হাসিনা ইত্যাদি নামের পরিবর্তন)। গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (দ্বিতীয় অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য। এর বাহিরেও অনেক আইন রয়েছে, যা নামের পরিবর্তন সম্পর্কিত।


