হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত বেড়েছে, ভারত অভিমুখী জাহাজে হামলা

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলা না থামালে, ইরান প্রণালিটি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণার ফলে, জলপথটি ঘিরে বাড়ছে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা। এর ফলে, বিশ্বে ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল থাকা জ্বালানি তেলের বাজার এবং শেয়ারবাজারে আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এ ছাড়া বুধবার ইরানের ১৬টি নৌযান ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, সেগুলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের কাজে যুক্ত ছিল। প্রণালিটি বন্ধ করা হলে ইরানে হামলা আরও প্রবল করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের হামলার জন্য দায়ী কে, তা পরিষ্কার নয় বলে জানা যায়। তবে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরসিজি) বুধবার জানিয়েছে, তারা এই জলপথে চলাচলে তাদের সতর্কতা মেনে নিয়ে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই দুটি জাহাজ ইসরায়েলের মালিকানাধীন। এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।

হরমুজ ঘিরে সংঘাতের মধ্যে বুধবার যুদ্ধের ১২তম দিনেও ইরান ও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানে সবচেয়ে তীব্র হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এতে ইরানে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। গতকাল আইআরজিসিও বলেছে যে যুদ্ধের মধ্যে তারা এখন ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ হামলা শুরু করেছে।

ইরানের সাথে লেবানন সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলিতেও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব বাড়ছে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতেও উদ্বেগ তুলে ধরছে, যা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশ করছেন। তিনি হামলার বিকল্প হিসেবে যুদ্ধের পক্ষগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজের প্রস্থান বন্ধ রেখেছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানায়, ইরান এই জলপথে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নেয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, যদি ইরান হরমুজে মাইন স্থাপন করে, তাহলে এই পরিণতি এমন হবে, যা কেউ কখনো দেখেনি।

ট্রাম্প হঠাৎ হুমকি হিসেবে বললেন যে, ইরানের ১৬টি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। নৌযানগুলোর হামলা ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা। রাতে হোয়াইট হাউসে, সাংবাদিকদের তার দাবিতে বললেন যে, ইরানের নৌবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার এবং নেতৃত্ব ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং ওমান উপসাগরে ১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও। এই হামলায় তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে হরমুজে। সর্বশেষ হামলার ঘটনা বুধবার সকালে একটি জাহাজে ঘটেছে। থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ থেকে অন্তত ২০ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে, তিনজন নিখোঁজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top