প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬
খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রির লক্ষ্যে বিএনপির লোকদের প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির এক নেতা পরিবেশকদের। তাঁর কাছে প্রাইভেসি দুর্বল হয়েছে যারা গত ১৫ বছরে বিএনপির লোকজন খেতে পারেননি। অবশেষে তাঁদের নির্দেশে দুই হাজার টাকা দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। ওই নেতার বক্তব্যের ভিডিও ছবিটি ভাইরাল হয়েছে, তবে তাঁর দাবি হচ্ছে ভিডিওটি প্রকৃত নয়।
বিএনপির ওই নেতা জালাল উদ্দিন ফকির নামে পরিচিত। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। একটি ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে জালাল উদ্দিন ওএমএস পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন দেখা গেছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, নতুন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের ডিলারদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ডিলারদের জন্য জালাল উদ্দিন বলেছেন, ‘ডিলাররা চাল বিতরণের সময় বিএনপির লোকজন দেখে দিলেন। যারা ১৫ বছরে খাইতে পারে নাই, তারা নাম হেগো দেওয়া দরকার। আর যারা খাইছে, তাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিবেন।’ তিনি আরও জানান, ‘আওয়ামী লীগের ডিলারদের বেশি গেছে, কিন্তু বিএনপির ডিলাররা এখনো আছে। তারা বেশি চুরি করেন না, কম খান এবং দিয়েন ডিলারদের।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল ফকির বলেছেন, ‘ভিডিওটির ভেতরে কোনো কিছু সত্যিক নেই। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। ভিডিওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া, ভিডিওটি একটি প্রতারণা আইডি দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি কোনো ডিলারদের সঙ্গে এমন কোনো আলোচনা করিনি।’
বরগুনা জেলার বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে। তারা বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে ভিডিওটি আসেছে। তবে জালাল উদ্দিন ফকিরের দলে কোনো পদ-পদবি নেই। যে কোন প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে সংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তা কেন্দ্রের সাথে আলাপ করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সময়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বর্জন করলেও তখন আমতলী উপজেলার বিএনপি আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে মোটামুটি অর্থের বিনিময়ে কাজ করার সময়ে একটি অডিও ভাইরাল হয়। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ওই প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের কথা জানান। দলীয় পদধারী নেতা-কর্মীরা মাঠে না নামলেও সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করেন।
এই ঘটনার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে জালাল উদ্দিনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। গত বছর তিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রাথমিক সদস্যপদ ফেরত দেওয়ার নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জালাল উদ্দিনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।


