পবিত্র রমজান মাসে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার দিনে ১০ হাজার ফিলিস্তিন মুসুল্লিকে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (১৮ ফেব্রয়ারি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অঞ্চলগুলোতে সরকারি কার্যক্রমের সমন্বয়কারী এই ঘোষণা দিয়েছেন।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের মানদণ্ডের ভিত্তিতে শুধু ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী মহিলা এবং ১২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা প্রথম-স্তরের আত্মীয়ের সঙ্গে আল-আকসায় নামাজে যোগ দিতে পারবেন। জেরুজালেমের টেম্পল মাউন্টে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই-বাছাই শেষে রাজনৈতিক নেতৃত্ব রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের নামাজ আদায়ের সুপারিশ গ্রহণ করেছে। স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে রমজানে ইবাদতের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সামরিক ইউনিট জানিয়েছে, সকল অনুমতি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের পূর্ব নিরাপত্তা অনুমোদনের জন্য শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আল আকসায় নামাজে অংশ নিতে জুডিয়া এবং সামেরিয়া অঞ্চলে ফিরে আসার পরে ক্রসিংগুলোতে ডিজিটাল ডকুমেন্টেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
পবিত্র রমজান মাসে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যগতভাবে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসায় নামাজ আদায় করেন। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল এই স্থান দখল করে নেয় এবং পরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় এমন একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে এটিকে সংযুক্ত করে।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেট এই সপ্তাহে জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জর্ডান পরিচালিত ইসলামিক ওয়াকফ – এই স্থানটি পরিচালনাকারী সংস্থাকে রমজানের আগে নিয়মিত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বাধা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছায়া কাঠামো স্থাপন এবং অস্থায়ী চিকিৎসা ক্লিনিক স্থাপন।
আল-আকসা মসজিদের একজন সিনিয়র ইমাম শেখ মুহাম্মদ আল-আব্বাসি বলেছেন যে তাকেও প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাকে এক সপ্তাহের জন্য মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং আদেশটি বাড়ানা হতে পারেও বলেও জানান তিনি।
আব্বাসি বলেছেন, গত সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি। দীর্ঘদিনের চুক্তির অধীনে, ইসরায়েল আল-আকসা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করতে পারে, যা তারা প্রথম এবং দ্বিতীয় মন্দিরের স্থান হিসাবে শ্রদ্ধা করে। কিন্তু তাদের সেখানে প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।
সাম্প্রতিক বছরে সংখ্যক জায়ান্টরা অতি-জাতীয়তাবাদী প্রার্থনা নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, যার মধ্যে অতি-ডানপন্থী রাজনীতিবিদ ইতামার বেন-গভির রয়েঠেন। যিনি ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী থাকাকালীন এই স্থানে প্রার্থনা করেছিলেন।
সূত্র: এএফপি।



