জয়ের পর ফুলেল মালা নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে বিএনপি প্রার্থী

রাজনীতিতে যেখানে বিজয়ের পর প্রার্থীদের মাঝে দেখা যায় দূরত্ব কিংবা প্রতিহিংসার ছায়া, সেখানে ঝিনাইদহ-১ আসনে ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন ভোটাররা। জয়-পরাজয়ের বিভাজনরেখা সরিয়ে মানবিকতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। 

বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে শুক্রবার সকালে ফুলেল মালা নিয়ে হাজির হন জামায়াত মনোনীত পরাজিত প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ।

কুশল বিনিময়ের পর নিজের বিজয়ের ফুলেল মালা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায় পরিয়ে দেন আসাদুজ্জামান। মুহূর্তটি উপস্থিত নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীর কাছে প্রতীকী বলে মনে হলেও রাজনীতির মাঠে তৈরি হয় সম্পর্কের অটুট বন্ধন।

ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, বাড়িঘরে হামলা কিংবা ভাঙচুরের নজির দেখেছেন। কিন্তু এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বিষয়টি অনেকে শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন।

এ সময় বিজয়ী প্রার্থী অ্যাড. আসাদুজ্জামান তার সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন যেন অটুট থাকে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাব।

স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার এই বার্তা শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

ভোটের ফলাফল সংখ্যায় মাপা যায়, কিন্তু মানবিকতার এই দৃশ্য মনে রাখবে ঝিনাইদহ-১ আসনের মানুষ। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের স্থান রয়েছে, তা নাদপাড়া গ্রামের একটি উঠোন নীরব সাক্ষী হয়ে রইল।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী আসাদ ১ লাখ ১৬ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top