১২ ফেব্রুয়ারি নতুন ইতিহাস রচিত হবে: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‌‘যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় গেলে তাদের শান্তিতে থাকতে দেবো না। দুনিয়ার যেখানেই থাকুক, আমরা ওই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসবো। তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেটে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার আয়োজন করে জেলা ও মহানগর জামায়াত।

মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুটপাট হয়েছে, সব সরকারের আমলে হয়েছে। কেউ করেছে কম, কেউ বেশি। শুধু ফ্যাসিবাদী সরকার সাড়ে ১৫ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন ইতিহাস রচিত হবে। ১৩ তারিখ যে সূর্য উদয় হবে, তার আলো নতুন বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তবে আমি শুধু জামায়াতের বিজয় চাই না। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ই হবে আমাদের বিজয়।’

আমরা ক্ষমতায় গেলে ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চির ওপরও বেইনসাফি করবো না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রতি ইঞ্চি মাটি তার পাওনা বুঝে নেবে আমার কাছ থেকে। বিভেদ ভুলে আমার দল ও জোটকে সুযোগ দেওয়ার জন্য সব ভোটারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আল্লাহ যদি আমাদের এই দেশের সেবকের দায়িত্ব দেন, এক ইঞ্চি মাটির ওপর কেউ আর চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস করতে পারবে না। দেশে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় গেলে দেশের এক ইঞ্চি জমিতেও বেইনসাফি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির পথ বন্ধ করতে পারলে পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।’

সিলেটকে আর বঞ্চিত রাখা হবে না বলে ঘোষণা দিয়ে তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নামে নয়, বাস্তব অর্থেই পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেন। সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে কেবল এই রুট নয়, বিমানের নতুন নতুন রুট চালু করবো। সুরমা-কুশিয়ারাসহ দেশের নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনা হবে। চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সিলেটবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যখাতে বিরাজমান সমস্যা সমাধান করা হবে।’

রাষ্ট্রীয় দফতরগুলোর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কোনও অফিস-আদালত বা কার্যালয়ে কারও ঘুষ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং ঘুষ খাওয়ার সাহসও হবে না। আমরা এসব বন্ধ করে দেবো। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবে প্রতিটি নাগরিক। নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত না করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top