সিঙ্গাপুরে এয়ারশোতে শক্তি দেখাল চীন

আকাশে উড়ন্ত যুদ্ধবিমান। নিচে দর্শকদের ভিড়। আলোঝলমলে প্রদর্শনীতে আধুনিক উড়োজাহাজের মডেল। এমন দৃশ্যেই শেষ হয়েছে এবারের সিঙ্গাপুর এয়ারশো। এই বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে চীন তার সামরিক ও বেসামরিক বিমান শক্তি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। লক্ষ্য একটাই—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজের প্রভাব বাড়ানো।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের বিখ্যাত অ্যারোবেটিক দল আকাশে দারুণ কসরত দেখিয়েছে। তারা ব্যবহার করেছে চেংদু জে-১০সি যুদ্ধবিমান। এই বিমান আগেও আলোচনায় এসেছিল। কারণ ২০২৫ সালে পাকিস্তান এই বিমানের রপ্তানি সংস্করণ ব্যবহার করে ভারতের কয়েকটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।

চীনা গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিমানগুলো আকাশ থেকে  জ্বালানি নিয়ে সরাসরি সিঙ্গাপুরে উড়ে আসে। এতে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে—চীনের সামরিক সক্ষমতা এখন অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি শক্তির স্পষ্ট বার্তা।

প্রদর্শনীতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোও বেশ চোখে পড়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে জে-৩৫এ নামে একটি নতুন স্টেলথ যুদ্ধবিমানের (রাডারে ধরা পড়ে না এমন বিমান) বড় মডেল। এ বিমানের বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও বার্তাটি পরিষ্কার—যেসব দেশ মার্কিন এফ-৩৫ কিনতে পারে না, তাদের জন্য চীনের বিকল্প আছে।

এই এয়ারশোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের চীনা স্টলে ভিড় করতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেক ক্ষেত্রে নিজের মিত্রদের নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। এতে কিছু দেশ নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছে চীন।

শুধু যুদ্ধবিমান নয়, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজও প্রদর্শন করেছে চীন। কম্যাক নামের চীনা প্রতিষ্ঠান তাদের সি-৯১৯ উড়োজাহাজ উড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতের বড় উড়োজাহাজ সি-৯২৯–এর মডেল দেখিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top