পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এশিয়াজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ড ও নেপালসহ বেশ কিছু দেশ তাদের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এছাড়া আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থাইল্যান্ড ও নেপাল ভারতে নিপাহ ভাইরাসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থাইল্যান্ড তাদের ব্যাংকক ও ফুকেটসহ তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করেছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মুখপাত্র জুরাই ওংসওয়াসদি জানিয়েছেন, তারা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে নেপালও কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং ভারতের সঙ্গে থাকা স্থল সীমান্তগুলোতে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে। এছাড়া তাইওয়ানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপাহ ভাইরাসকে তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ‘ক্যাটাগরি-৫’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। কতটা ভয়াবহ এই ভাইরাস? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহ ভাইরাসকে কোভিড-১৯ এবং জিকার মতো শীর্ষ ১০টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রোগের তালিকায় রেখেছে।
এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেক বেশি, শতকরা ৪০ থেকে ৭৫ ভাগ। এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনও স্বীকৃত ওষুধ বা টিকা নেই। প্রাণী (বিশেষ করে শুকর ও ফলখেকো বাদুড়) থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়ায়। এছাড়া সংক্রমিত খাবার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি এবং গলাব্যথা। গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যা মানুষের মৃত্যু ঘটায়।
অতীতের প্রাদুর্ভাব ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম নিপাহ ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তা সিঙ্গাপুরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ১০ লাখের বেশি শুকর মেরে ফেলা হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশও নিপাহ ভাইরাসের বড় শিকার। ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে এর আগে ২০০১ ও ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে এবং অতি সম্প্রতি কেরালা রাজ্যে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। বর্তমান সংক্রমণটি বারাসাতের একটি হাসপাতাল কেন্দ্রিক হলেও তা ছড়িয়ে পড়া রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।



