নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে তরুণীর মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে এক যুবতী মেয়ে একটি অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হওয়ার পর শহরের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। একই ধরনের ইস্যু নিয়ে সারা দেশে এক হাজারের বেশি বিক্ষোভ এবং সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার সার্বিক শীতলতা ও ঝড়ের পরিবেশ উপেক্ষা করে মিনিয়াপোলিসে প্রতিবাদে হাজির হন বহু মানুষ। বুধবার একজন আইস কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুডের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মিনেসোটা রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতা এবং রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ বিষয়টি নিয়ে একে অপরের বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মিনিয়াপোলিস মহানগরীতে প্রায় ৩৮ লাখ লোক বাস করে। সেখানকার প্রতিবাদকারীরা একটি আদিবাসী মেক্সিকান নৃত্যদল দ্বারা নেতৃত্বাধীন একটি মিছিল বের করে সেই এলাকায় যান, যেখানে রেনে গুড গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তার গাড়ির ভিতরে।
মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ছিল হাজারেরও বেশি। তারা রেনে গুডের নাম নিয়ে স্লোগান দেয় এবং ‘অ্যাবলিশ আইস’, ‘নো জাস্টিস, নো পিস- গেট আইস অব আওয়ার স্ট্রিটস’ এর মতো বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করে।
৩০ বছর বয়সী প্রতিবেদনকারী এলিসন মন্টগোমারি ব্রিটিশবার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তিনি অত্যন্ত রুষ্ট, পুরোপুরি বিরক্ত এবং বিধ্বস্ত অনুভব করছেন।িক্তু ভিতরের একপ্রকার আশা রয়েছে যে, কিছু ভাল কিছু ঘটবে।
মিনেসোটা রাজ্যের কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে অযৌক্তিক বলে চিহ্নিত করেছে। তাদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, দর্শক দ্বারা ধারণকৃত ফুটেজে দেখা যাচ্ছে গুডের গাড়িটি আইস কর্মকর্তার অন্য দিকে সরে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই গুলি চালানো হয়।
কিন্তু আইসের তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) দাবি, ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানোর অনুমতি পেয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, গুড গাড়িটি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে আরেকটি আইস কর্মকর্তা গাড়ির ড্রাইভারের পাশে গিয়ে তাকে গাড়ি থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেন।
বুধবারের এ গুলির ঘটনা ঘটে যখন মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ডিএইচএস এই অভিযোজনটিকে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হিসেবে বিবেচনা করেছে। ফলে রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভিতরের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
অন্যান্য রাজ্যেও উত্তেজনা
ঘটনার পর দিন ৮ জানুয়ারি উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে একটি মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার সময় একটি গাড়িতে গুলি চালিয়ে একজন নারী এবং একজন পুরুষকে আহত করেন। মিনিয়াপোলিসের ঘটনার মতো একই ভাষা ব্যবহার করে ডিএইচএস জানায়, চালক গাড়িটিকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করে কর্মকর্তাদের উপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
এই দুটি গুলির ঘটনা শেষে ইন্ডিভিজিবল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) মতো উদারবাদী ও মানুষের অধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ‘আইস আউট ফর গুড’ শীর্ষক স্লোগানসহ ১০ এবং ১১ জানুয়ারি সারাদেশে এক হাজারেরও বেশি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে সব সমাবেশ সূর্যাস্তের আগে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়।
ফিলাডেলফিয়াতে প্রতিবাদকারীরা সিটি হল থেকে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রের দিকে মিছিল করেন। সেখানে তারা ‘আইসকে চলে যেতে হবে’ এবং ‘নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে কয়েকশ মানুষ অভিবাসন আদালতের পাশ দিয়ে মিছিল করে, যেখানে শুনানি শেষে অভিবাসীদের গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে।
ইন্ডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, আমরা রেনের জন্য ন্যায়বিচার চাই, আইসকে আমাদের সমাজ থেকে সরিয়ে দিতে চাই এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।

1 thought on “নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে তরুণীর মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ”

  1. HM HASAN MAHMUD HIMU

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় শহরটিতে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। একই ইস্যুতে দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভ ও সমাবেশের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top